দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন একটি জনগণকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’। শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি।
জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি —এই স্লোগানকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করা এনপিএ পাঁচটি মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। নীতিগুলো হলো গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আয়োজকরা বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে জনগণের স্বার্থভিত্তিক একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতেই এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা। তারা জনগণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান ঘিরে দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর সমর্থক, নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চ ও প্যান্ডেল স্থাপনের পর বিকাল নাগাদ পুরো প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম হয়।
এ সময় সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর হুযাইফা আল মামদূহ জানান, এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট। তিনি প্রাথমিকভাবে ৯৯ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। বাকি সদস্যদের নাম পরবর্তীতে পরামর্শের ভিত্তিতে যুক্ত করা হবে বলে জানান।
ঘোষিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগকারী অনিক রায়, অলীক মৃ, তুহিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমি, তাসলিমা মিজি প্রমুখ।
এনপিএর ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান জনসেবার বদলে ক্ষমতা ও সম্পদ আহরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতা বদলাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার সুরক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবে এনপিএ।
প্ল্যাটফর্মটি আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক নীতিতে এনপিএ লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেছে। সংগঠনটির লক্ষ্য স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ জন্য কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির কথাও বলা হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট প্রসঙ্গে এনপিএ জানায়, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশে নদী, বন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে সংগঠনটি।
এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ জানায়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য।
