ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামী কেউই ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী নয়। তার দাবি, একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে নির্বাচন করছে।
সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড সংলগ্ন মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগর আংশিক) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শায়খ নেছার আহমদ আন-নাছিরীর পক্ষে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একই ধরনের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি দেখেছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ পায়নি। যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে। আবার তাদেরকেই ক্ষমতায় আনলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই ইসলামকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই হাতপাখা মার্কায় ভোট দিলে দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তি মিলবে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ভাঙার ব্যাখ্যায় ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ইসলামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠিত হয়েছিল, যা পরে ১১ দলে বিস্তৃত হয়। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি থেকে সরে এসেছে, ফলে মতবিরোধ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই এই আদর্শে অবিচল না থাকায় জামায়াতের ওপর আমাদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৬৮টি আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার হলো রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরে শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুফতি হেদায়েতুল্লাহ আজাদী, মুফতি মোস্তাকুন্নবী, মুফতি তৌহিদুল ইসলাম ও মুফতি রেজাউল ইসলাম আবরারসহ দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
