রংপুরের ঘাঁটিতেও ব্যর্থ জাপা, ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোটেনি একটিও

১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে দলটি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল, ১৯৯৬ সালে ৩২টি আসন, ২০০১ সালে ১৪টি, ২০০৮ সালে ২৮টি, ২০১৪ সালে ৩৪টি, ২০১৮ সালে ২২টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ১১টি আসন পেয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
জাতীয় পার্টি (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ফাইল ছবি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা) পুরোপুরি ভরাডুবির মুখে পড়েছে। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর প্রথমবারের মতো এই দল কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। এমনকি জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরেও দলের অবস্থান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে জাপার রাজনীতির শেষ হিসেবে দেখছেন।

এবার নির্বাচনে জাপা ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল, যিনি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। জি এম কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।

জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ৩৪ হাজার ভোটের কাছাকাছি পেয়েছেন। জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান, যিনি ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপা গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে স্বকীয়তা হারিয়েছে। দলের ভোটাররা আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে জাপাকে আর সমর্থন দেননি। এর পাশাপাশি নেতানির্ভর হয়ে পড়ায় কর্মী ও সমর্থকের সংখ্যা কমে গেছে।

জাতীয় পার্টির পূর্ববর্তী নির্বাচনী ইতিহাসও আশাহত নয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে দলটি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল, ১৯৯৬ সালে ৩২টি আসন, ২০০১ সালে ১৪টি, ২০০৮ সালে ২৮টি, ২০১৪ সালে ৩৪টি, ২০১৮ সালে ২২টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ১১টি আসন পেয়েছিল।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে জাপা আরও ভাঙনের মুখে পড়ে। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বে নতুন গঠন হয়, তবে মূল জাতীয় পার্টি জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বহাল থাকে। ছোট ভাই জি এম কাদের দলের মুখ্য নেতা হিসেবে সামনে থাকলেও দলের ভাঙাচোরা ও অজ্ঞাতনামা নেতাদের কারণে তেমন ফলাফল আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী এলাকায় এরশাদের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও, এবারের নির্বাচনে জাপা পর্যুদস্ত হয়ে সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কয়েক দফায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী এবং কয়েকটি অন্য দল জাপাকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *