ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এ পদক্ষেপকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা মোটরে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় প্রশাসক বসানো অগণতান্ত্রিক। এদিনই সার্জিস আলমকে চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে সদস্য সচিব করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করে দলটি।
সরকার সম্প্রতি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এনসিপির নেতারা দাবি করেন, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ না নিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রশাসক পদে থাকা ব্যক্তিরা পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নিলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, “নির্বাচনের দিন-তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা উচিত। দলীয়ভাবে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে বসানো গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।”
এদিকে ‘রাজপথে আন্দোলন করা যাবে না’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এনসিপি। দলের নেতারা বলেন, যৌক্তিক দাবি আদায়ে আন্দোলনের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তবে তারা একই সঙ্গে অযৌক্তিকভাবে সড়ক অবরোধের বিরোধিতাও করেন।
পুলিশি অভিযানের নামে হয়রানি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এসব বন্ধের আহ্বান জানায় দলটি। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য দলের ‘অবমূল্যায়িত’ নেতাদের এনসিপির ব্যানারে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান সার্জিস আলম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়লেও এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
