গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে ভবিষ্যতে অবস্থান করবেন কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তার মতে, শেখ হাসিনার অবস্থানের পেছনে যে বিশেষ পরিস্থিতি রয়েছে, তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে এনডিটিভির সিইও ও প্রধান সম্পাদক রাহুল কানওয়াল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন।
দেড় যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। আন্দোলন দমনকালে সহিংসতার ঘটনায় বহু প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে এবং পরে ওই সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গঠিত আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয় এমনটাই উল্লেখ করেন আয়োজকেরা।
শেখ হাসিনা চাইলে দীর্ঘ সময় ভারতে থাকতে পারবেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেন, এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি এখানে এসেছেন বিশেষ এক পরিস্থিতিতে, এবং সেটিই মূলত নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে কী হবে। তবে সিদ্ধান্ত অবশ্যই তারই নিতে হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের নির্বাচনী বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি নির্বাচনই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে, তবে এর সমাধান হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই সবচেয়ে জরুরি।
জয়শঙ্কর জানান, ভারত সবসময় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে যেই সরকারই গঠিত হোক না কেন, দুই দেশের সম্পর্ক পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে এগিয়ে যাবে।
ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
