সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা: ন্যূনতম ৫০ টন ধারণক্ষমতার গুদাম বাধ্যতামূলক

বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান সৎ ও সক্রিয় ডিলাররা আবেদন করলে অগ্রাধিকার পাবেন, শর্ত সাপেক্ষে নতুন নিয়ম মেনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

কৃষকদের কাছে সময়মতো ও সহজে সার পৌঁছে দিতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ চূড়ান্ত করেছে। কৃষিবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির অনুমোদনের পর গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়। রোববার থেকে নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন করে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ডিলারশিপ পেতে হলে ন্যূনতম ৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি প্রধান গুদাম এবং ৫–১০ টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি বিক্রয় কেন্দ্র থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ডিলারের সংখ্যা কৃষিজমির পরিমাণ ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশে নির্ধারিত হবে।

নীতিমালায় ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া, ডিজিটাল নজরদারি, যোগ্যতা যাচাইয়ের কঠোর শর্ত, এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধ, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা প্রথা বাতিলসহ বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সার ডিলারকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিক হতে হবে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে অন্তত ১০ লাখ টাকার ব্যাংক সনদ জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে গুদামের সঙ্গে রেস্টুরেন্ট, সবজির দোকান, গো-খাদ্য বা বালাইনাশক সংরক্ষণ কেন্দ্র বসানো যাবে না এ ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞাও নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে। প্রতিটি ডিলারের অধীনে তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রে ভর্তুকি ও বিক্রয়মূল্যসহ সব তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক থাকবে। সার বিক্রি, উত্তোলন ও হিসাব ডিজিটালি সংরক্ষণ না করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।

সরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তবে সাজাভোগের দুই বছর পর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডিলারশিপের জামানত ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং দুই বছর পরপর ২ হাজার টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত বিসিআইসি ও বিএডিসির সার বিতরণ কার্যক্রম একীভূত করে একক নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে ‘বিসিআইসি ডিলার’ ও ‘বিএডিসি ডিলার’ নামে আর কোনো পৃথক পরিচয় থাকবে না; একই ডিলার ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া উভয় ধরনের সার বিক্রি করতে পারবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে তার ডিলারশিপ বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ২০০৯ ও ২০১০ সালের পুরোনো সব নীতিমালা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান সৎ ও সক্রিয় ডিলাররা আবেদন করলে অগ্রাধিকার পাবেন, শর্ত সাপেক্ষে নতুন নিয়ম মেনে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *