বরিশালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) শিশু ওয়ার্ড হিসেবে এটি চালুর সিদ্ধান্ত থাকলেও জনবল সংকট ও দূরত্বজনিত কারণে দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে হাসপাতালটি কবে চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে একই নকশা ও মানে দুটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। রাজশাহীতে নির্মিত হাসপাতালটির অবকাঠামো সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হলেও বরিশালের হাসপাতালটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
বরিশালে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫১ টাকা ব্যয়ে ১০তলা ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। গত বছর ভবনের নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি। বর্তমানে ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে বরিশাল বিভাগে শিশুদের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র ভরসা শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেখানে মাত্র ৩৬টি শয্যা থাকলেও প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। শীত মৌসুমে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা ছাড়াও মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে শিশু রোগীরা শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। ফলে একই শয্যায় একাধিক রোগীকে থাকতে হচ্ছে, অনেককে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। বহির্বিভাগেও শিশু রোগীদের ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে।
জানা গেছে, ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের শুরুতে শিশু হাসপাতালটিকে শেবাচিম হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়া এবং হাসপাতালটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল পরিচালনায় অন্তত ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত একজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, শিশু হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সাবস্টেশন, জেনারেটর ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি জানান।
