চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা কার্যকর হয়েছে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে। এতে গড়ে ৪১ শতাংশ মাশুল বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কনটেইনার পরিবহনে মাশুল বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
আগে ২০ ফুট কনটেইনারপ্রতি গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা খরচ হতো, এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কনটেইনারে বাড়তি খরচ গড়ে ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র ওঠানো-নামানোর চার্জ এক লাফে ৪৩ দশমিক ৪০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮ ডলার।
রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, হঠাৎ এভাবে মাশুল বাড়ানো ‘অশনিসংকেত’। বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান সতর্ক করে বলেন, “এতে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে।”
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, একসঙ্গে এতটা বৃদ্ধিতে আমদানি ও রফতানি দুই দিকেই দ্বিগুণ চাপ তৈরি হবে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম মাশুল বাড়ানো হলো। আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় এখনো এ হার অনেক কম বলে দাবি তাদের। তবে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১০-২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটি উপেক্ষা করে গড়ে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধিতে ক্ষোভ বাড়ছে।
সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, একসঙ্গে এতটা বাড়ানো হতবাক করার মতো সিদ্ধান্ত। ধাপে ধাপে বাড়ানো যেত।
উল্লেখ্য, দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত ৯৯ শতাংশ কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আসে। ফলে নতুন মাশুলের প্রভাব পড়বে সরাসরি ভোক্তা বাজার ও রফতানির ওপর।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে একদিকে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
