ঘুম থেকে চিরঘুমে পাঁচ মাস বয়সী সোহাগী, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা :

3 Min Read
আহাজারী থামছে না মা শ্রাবন্তী মন্ডলের।

পাঁচ মাস বয়সী ঘুমন্ত শিশু সন্তান সোহাগীকে বিছানায় শুইয়ে রেখে ঘরের কাজ করছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। এক পর্যায়ে খড় আনতে বাইরে যান তিনি। মাত্র কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, বিছানা খালি, বুকের ধন শিশু সন্তান নেই। শুরু হয় পাগলপ্রায় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় ছোট্ট সোহাগীর নিষ্প্রাণ দেহ।

শনিবার (৩১ মে) সকালে এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারে চলছে আহাজারী। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সবার মনে প্রশ্ন, কে নিয়ে গেল ঘুমন্ত ছোট্ট সোহাগীকে। আর কেনই বা তার মৃত্যু হলো।

কি এমন রহস্য আছে শিশুটির মৃত্যুর পেছনে? কার শত্রুতার বলি হলো মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান? মৃত শিশু সোহাগী চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর মন্ডলপাড়া গ্রামের কমল মন্ডল ও শ্রাবন্তী মন্ডল দম্পতির একমাত্র মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন সকালে শিশু সোহাগী কখনও ঘরের বারান্দার বিছানায়, আবার কখনও দোলনায় শুইয়ে রেখে সংসারের কাজ করেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল সাতটার দিকে ঘুমন্ত শিশু সোহাগীকে ঘরের বারান্দায় বিছানায় শুইয়ে রেখে গরুর খাবারের জন্য খড় আনতে বাইরে যান মা শ্রাবন্তী। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার শিশু সন্তান সোহাগী বিছানায় নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

এক পর্যায়ে বাড়ির অদূরে বড়াল নদের পাড়ে সোহাগীর নিষ্প্রাণ দেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র মেয়ে ছোট্ট সোহাগীর কথা বলতে বলতে প্রায়ই মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। মেয়ে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা কমল মন্ডল। এলাকার মানুষ ভীড় জড়িয়েছেন বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন শিশু সোহাগীর বাবা-মাকে স্বান্তনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বারান্দায় ঝোলানো রয়েছে দোলনা।

যেখানে সোহাগীকে শুইয়ে রেখে সংসারের কাজ করতেন মা। সেই দোলনা দেখে মা শ্রাবন্তী মন্ডল বলেন, ‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আপনারা আমার সোহাগীকে এনে দেন।’ শিশু সোহাগীর বাবা কমল মন্ডলের দাবি, ‘মেয়ের এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। কেউ তাদের ঘর থেকেই শিশুকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে দাবি জানান তিনি।’ এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঘুম থেকে চিরঘুমে পাঁচ মাস বয়সী সোহাগী, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা :

3 Min Read
আহাজারী থামছে না মা শ্রাবন্তী মন্ডলের।

পাঁচ মাস বয়সী ঘুমন্ত শিশু সন্তান সোহাগীকে বিছানায় শুইয়ে রেখে ঘরের কাজ করছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। এক পর্যায়ে খড় আনতে বাইরে যান তিনি। মাত্র কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, বিছানা খালি, বুকের ধন শিশু সন্তান নেই। শুরু হয় পাগলপ্রায় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় ছোট্ট সোহাগীর নিষ্প্রাণ দেহ।

শনিবার (৩১ মে) সকালে এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারে চলছে আহাজারী। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সবার মনে প্রশ্ন, কে নিয়ে গেল ঘুমন্ত ছোট্ট সোহাগীকে। আর কেনই বা তার মৃত্যু হলো।

কি এমন রহস্য আছে শিশুটির মৃত্যুর পেছনে? কার শত্রুতার বলি হলো মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান? মৃত শিশু সোহাগী চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর মন্ডলপাড়া গ্রামের কমল মন্ডল ও শ্রাবন্তী মন্ডল দম্পতির একমাত্র মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন সকালে শিশু সোহাগী কখনও ঘরের বারান্দার বিছানায়, আবার কখনও দোলনায় শুইয়ে রেখে সংসারের কাজ করেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল সাতটার দিকে ঘুমন্ত শিশু সোহাগীকে ঘরের বারান্দায় বিছানায় শুইয়ে রেখে গরুর খাবারের জন্য খড় আনতে বাইরে যান মা শ্রাবন্তী। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার শিশু সন্তান সোহাগী বিছানায় নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

এক পর্যায়ে বাড়ির অদূরে বড়াল নদের পাড়ে সোহাগীর নিষ্প্রাণ দেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র মেয়ে ছোট্ট সোহাগীর কথা বলতে বলতে প্রায়ই মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। মেয়ে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা কমল মন্ডল। এলাকার মানুষ ভীড় জড়িয়েছেন বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন শিশু সোহাগীর বাবা-মাকে স্বান্তনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বারান্দায় ঝোলানো রয়েছে দোলনা।

যেখানে সোহাগীকে শুইয়ে রেখে সংসারের কাজ করতেন মা। সেই দোলনা দেখে মা শ্রাবন্তী মন্ডল বলেন, ‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আপনারা আমার সোহাগীকে এনে দেন।’ শিশু সোহাগীর বাবা কমল মন্ডলের দাবি, ‘মেয়ের এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। কেউ তাদের ঘর থেকেই শিশুকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে দাবি জানান তিনি।’ এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *