ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনসারের উত্তর জোন কমান্ডার মো. গোলাম মৌলাহ তুহিন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি জানান, প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে—তাদের বেশিরভাগই উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে আহত বা অসুস্থ হয়েছেন, তবে কেউ গুরুতর নন।
শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের কুরিয়ার শাখায় আগুন লাগে বলে কর্মীরা জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ৩৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, সঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, আনসার, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত আছেন।
গোলাম মৌলাহ তুহিন জানান, বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের পাশে বিভিন্ন কোম্পানির আমদানি করা কেমিকেল, গার্মেন্টস পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও মেশিনারিজ রাখা ছিল—সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। “আমাদের সদস্যরা প্রথমে আগুন দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান এবং নিজেরা ঝুঁকি নিয়েও প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন,” বলেন তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরে কর্মরত প্রায় এক হাজার আনসার সদস্য উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে সহযোগিতা করছেন।
এয়ারপোর্ট কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম ভুইয়া মিঠু জানান, সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় কার্গো ভিলেজের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কুরিয়ার শাখায় আধাবেলা কাজ চলছিল। দুপুর ২টার দিকে কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার পরপরই আগুন লাগে।
“সেখানে তখনো কিছু শ্রমিক ও আনসার সদস্য ছিলেন। আগুন লাগার পর সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বলা হয়, ওই গুদামে রাসায়নিক ও গোলাবারুদ থাকতে পারে, বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে,” বলেন মিঠু।
তিনি অভিযোগ করেন, “ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ৮ নম্বর গেটে অনেকক্ষণ আটকে ছিল। অনুমতির জটিলতায় তারা ভিতরে ঢুকতে পারেনি।”
বিমানের কয়েকজন কর্মী জানান, আগুন কুরিয়ার শাখা থেকেই শুরু হয়, তারা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ঘটনার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এক ডজনের বেশি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে গিয়েছে।
কার্গো ভিলেজটি বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব কোণে, প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। আগুন লাগার পর উড়োজাহাজ পার্কিং বে ১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত থাকা কয়েকটি উড়োজাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মীরা।
কুরিয়ার সেকশনে থাকা মালামালের পাশাপাশি বাইরে রাখা কিছু পণ্যও আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ৮ নম্বর গেট দিয়ে পরপর বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে যায়। ওই গেটের সামনে থেকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়, কারণ আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছিল। ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়, আগুন লাগা গুদামের পাশে জ্বালানি পদার্থ মজুত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
