সন্দেহভাজনদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় শুধু মাত্র রাউজানে মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, অস্ত্রধারী ও মূল আসামিরা কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

2 Min Read

চট্টগ্রাম নগরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ও অস্ত্রধারী সন্দেহভাজনদের দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) দিয়ে ব্রাশফায়ার করে আটক বা নিরস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ওয়্যারলেস বার্তায় টহল ও থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেন। একাধিক সূত্র বলছে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কয়েক দফায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার খোন্দকারাবাদে এক জনসংযোগ কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে গুলিতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন; ওই ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও আহত হন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা কঠোর করার প্রেক্ষিতে কমিশনারের ওই নির্দেশনা আসে।

কমিশনারের বার্তায় বলা হয়েছে, শটগান ও চায়না রাইফেল প্রত্যাহার করা হবে এবং তাদের বদলে এসএমজি বহন করা হবে; টহল টিমকে শিশা শটগান, দুটি গ্যাস গান ও টিম ইনচার্জদের নাইন এমএম পিস্তলও বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী চেকপোস্ট বাড়িয়ে সাতটি থেকে ১৩টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার ও দণ্ডবিধির বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে সব দায়-দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন।

সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, নগরকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেয়া যাবে না; অস্ত্রধারী দেখা মাত্রই গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনসংযোগে ঢুকে প্রকাশ্য গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল।

মানবাধিকার কর্মী জহিরুল আলম এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। এমন নির্দেশনা নির্বিচারে বলপ্রয়োগের আশঙ্কা বাড়াবে এবং নিরস্ত্র নাগরিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। অস্ত্রধারী দেখলেই গুলি করার নির্দেশ মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় শুধু মাত্র রাউজানে মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, অস্ত্রধারী ও মূল আসামিরা কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *