আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘যুগপৎ’ আন্দোলনের অংশীদার সাতটি দলের সঙ্গে আরও ৮টি আসন ছেড়ে দিল বিএনপি। বুধবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসনসমূহের তালিকা ঘোষণা করেন।
যেসব আসনগুলো শরিকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—বগুড়া-২ (নাগরিক ঐক্য), পিরোজপুর-১ (জাতীয় পার্টি), নড়াইল-২ (এনপিপি), যশোর-৫ (ইসলামী ঐক্য জোট), পটুয়াখালী-৩ (গণঅধিকার পরিষদ), ঝিনাইদহ-৪ (গণঅধিকার পরিষদ), ঢাকা-১২ (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি), এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (গণসংহতি আন্দোলন)।
এই আসনগুলোতে বিএনপি নিজে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং শরিকদের পক্ষে নির্ধারিত আসনেই প্রার্থী হতে হবে, অন্য কোথাও নয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এই শর্তে আসন সমঝোতা করা হয়েছে, যেখানে দলের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি ইতিমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে। বিশেষ করে, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা অংশ নেয়, তবে সীমিত পরিসরে। এবার, দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবং শাসনব্যবস্থায় নির্যাতনের শিকার নেতাদের মধ্যেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ বেড়েছে, তাই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আরো সাবধানীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হতে চান।
এখন পর্যন্ত বিএনপি ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এবং বাকি ২৮টি আসন শরিকদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে গতকাল জমিয়তকে চারটি আসন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সিলেট-৫, নীলফামারী-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী দিনের জন্য আরো পরিকল্পনা নিতে ব্যস্ত আছেন। দলীয়ভাবে নির্বাচনে ব্যাপক সমর্থন অর্জনের জন্য তারা এই আসন সমঝোতাকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইছেন।
