ভুয়া নথি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে প্রায় ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে দুদকের উপপরিচালক জি এম আহসানুল কবীর সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, “ব্লুম সাকসেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভুয়া সিভিল ওয়ার্ক চুক্তিপত্র ব্যবহার করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। ঋণের টাকা উত্তোলন করে নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া নথি তৈরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের বা অন্যের লাভের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ মোট ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা ব্যাংককে ফেরত দিতে হবে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মাদ ছাড়াও ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিশ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক খাদিজা আক্তার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড-এর সাবেক পরিচালক রন হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার ও মনোয়ারা সিকদার। এছাড়া ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এ এস এম বুলবুল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান আবু রাশেদ নওয়াব, সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমান ও মাবরুর হোসেনও মামলার আসামি।
অন্যান্য আসামির মধ্যে ব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাবিবুর রহমান, ডিএমডি আরীফ মো. শহীদুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জুপিটার বিজনেস লিমিটেড ও টেক ইনটেলিজেন্স লিমিটেডের পরিচালক এবং এমডি-রাও অন্তর্ভুক্ত।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
