৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ, সিসিটিভিতে বরাদ্দ ৭২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
ফাইল ছবি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দেশের মোট ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সারাদেশের ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে অন্তত ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে দ্রুতগতিতে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব সাধারণ কেন্দ্র এই বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নেই, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গাজীপুর জেলায় সিসিটিভি স্থাপনের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। জেলার ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সারাদেশের সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রাজধানীর জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ডিএমপিকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *