বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে উপরের সব শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান লটারি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করতে লটারি প্রথা বাতিল করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, লটারি কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার মানদণ্ড হতে পারে না। আমরা গত এক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে।
ভর্তিতে লটারিকে তিনি অনেকটা ‘জুয়া খেলা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা স্থায়ী হতে পারে না। তবে ভর্তি পরীক্ষা যেন শিশুদের জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অত্যন্ত সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক মেধা যাচাই করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হলে কোচিং বাণিজ্য বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই ‘ইন-হাউস’ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভর্তি পদ্ধতি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সামনে আরও আলোচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
