রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় এই উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. আব্দুল মালিক-এর ৭১ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
নোটিশে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যার ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং অসাধু ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এ ধরনের অনিয়ম বেশি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-এর উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হচ্ছে।
মন্ত্রী সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খান-এর স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, প্রবাসে থাকা যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের দ্রুত তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে তিনি শিগগিরই সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্থানসমূহ পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
