বিমানের নতুন ড্রিমলাইনার চুক্তি: প্রযুক্তি ও সক্ষমতায় বিশেষত্ব বিশ্লেষণ

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read
বিমানের বহরে থাকা ড্রিমলাইনার ৭৮৭ সিরিজ। ফাইল ছবি।

বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উড়োজাহাজ হিসেবে গুরুত্ব বাড়ছে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সিরিজের। জ্বালানি সাশ্রয়, দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা এবং যাত্রীসুবিধার কারণে এই সিরিজের উড়োজাহাজ এখন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বোয়িংয়ের ৭৮৭ পরিবার মূলত ওয়াইডবডি বা দ্বৈত-আইল বিশিষ্ট উড়োজাহাজ, যা দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এই সিরিজের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এই তিনটি মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স স্বল্প ও মধ্য দূরত্বের রুটে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত একটি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।

বিমান খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, ৭৮৭ সিরিজের মধ্যে ৭৮৭-১০ মডেলটি সবচেয়ে বড়, যেখানে একসঙ্গে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। তবে যাত্রী ধারণক্ষমতা বেশি হওয়ায় এর রেঞ্জ তুলনামূলক কম। বিপরীতে ৭৮৭-৯ মডেলটি ধারণক্ষমতা ও রেঞ্জ—দুই দিক থেকেই ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর ৭৮৭-৮ মডেলটি তুলনামূলক ছোট হলেও দীর্ঘ দূরত্বে নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।

অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলটি স্বল্প দূরত্বের জন্য উপযোগী। এক আইল বিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ সাধারণত আঞ্চলিক রুটে, যেমন এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বা মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি গন্তব্যে ব্যবহৃত হয়।

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে বিমান

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ৫০টির বেশি এয়ারলাইন ড্রিমলাইনার ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ এয়ারলাইনগুলো তাদের বহরে এই উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-ও ইতোমধ্যে ড্রিমলাইনার ব্যবহার করছে।

বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, ড্রিমলাইনার সিরিজের প্রধান আকর্ষণ এর জ্বালানি দক্ষতা। প্রচলিত উড়োজাহাজের তুলনায় এটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে, যা এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কম কার্বন নিঃসরণ এবং উন্নত কেবিন সুবিধা যাত্রীদের কাছেও এই উড়োজাহাজকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সক্রিয় রয়েছে এবং নতুন অর্ডারের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার রুট সম্প্রসারণে আগ্রহী এয়ারলাইনগুলো এই মডেলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।

তবে প্রতিযোগিতার বাজারেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের এ৩৫০ ও এ৩৩০নিও সিরিজ ড্রিমলাইনারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবুও জ্বালানি সাশ্রয় ও রুট বৈচিত্র্যের সুবিধার কারণে বোয়িং ৭৮৭ সিরিজ বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

- Advertisement -

সব মিলিয়ে, আধুনিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ড্রিমলাইনার সিরিজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রুট পরিকল্পনা ও প্রতিযোগিতার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। সূত্র – ইন্টারনেট।

উল্লেখ্য, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং–এর কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বহরে যুক্ত হবে মোট ১৪টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *