ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অধিবেশন সমাপনী ঘোষণা পাঠ করে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
গত ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অধিবেশন ২৫ কার্যদিবস চলার পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ অধিবেশনে মোট ২৫টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই অধিবেশনে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়েছে। আজকের দুটি বিলসহ মোট ৯৪টি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হয়। পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন নোটিশও আলোচনায় আসে। ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশের মধ্যে দুটি, ৬৮ বিধিতে ৯টির মধ্যে একটি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়। ৭১ বিধির অধীনে ৩৮টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে ২০৭ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন। এছাড়া ১৬৪ বিধিতে একটি নোটিশ বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। মন্ত্রীদের জন্য জমা হওয়া ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর সংসদে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই সংসদ নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক পর্ব তৈরি করেছে। তার ভাষায়, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, তা অতীতে বিরল।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রথমবারের মতো এই সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্যদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ২২০ জন নতুন সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদের কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকেও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
স্পিকার সংসদ সচিবালয়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার’ সামনে রেখে বর্তমান সংসদ একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
