বাংলাদেশের চাষযোগ্য জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করা যাবে না। এ জন্য এখন থেকেই সরকারকে দেশের প্রতিটি জেলায় জোনিং করে জমির শ্রেণি বিন্যাস করে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রুপান্তরের জন্য যেমনি ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) তৈরী করা হয়েছে। এমনিভাবে সারাদেশের প্রতিটি জেলায়ও জমির প্রকৃতি নির্ধারণ করে আবাসন, শিল্পায়ন ও কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজম্মের কাছে আমাদের জবাবদিহিতার কোন সুযোগ থাকবেনা।
তিনি বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করা যাবে না, সে ক্ষেত্রে বিকল্প একটাই যে আমাদের ভার্টিকালি যেতে হবে। হাই রাইজ বিল্ডিং করতে হবে ।
তিনি বলেন, গৃহায়ন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে আমরা বলেছি হাইট স্টেশন তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে এয়ারফেস সহ রাষ্ট্রের রাডার সহ গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলো আছে সেই জায়গা ছাড়া বাকি জায়গাতে হাইট স্টেশন রাখার কোন দরকার নেই। যেটা আমরা অনেক উদাহরণ দিয়ে বলেছি যেমনটা বলেছি ব্যাংককের কথা। কারণ ব্যাংককে সরকার তাদের দেশের জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করেনা।
তিনি বলেন, আমরা গৃহায়ন মন্ত্রীকে এটাও বলেছি যে শুধু ঢাকার জন্য একটা প্লান করে বসে থাকলে হবেনা। আমরা বলেছি গোটা বাংলাদেশটাকে জোনিং করতে হবে। যেখানে কৃষি সমৃদ্ব এলাকা সেখানে কৃষিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কৃষি জমির এক ইঞ্চিতেও শিল্পায়ন বা আবাসন করা যাবেনা। আবার যেখানে শিল্পায়ন করতে হবে সেখানেও উচু ভবন তৈরীর প্লান থাকতে হবে।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, আগের সরকরের আমলে তৈরী করা ড্যাপ -এ অনেক অসংগতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবে সাজাতে হবে। যেমন ধরেন রাজধানীর মিরপুরের একটি এলাকায় আশপাশে সব ১০ থেকে ১৫ তলা ভবন। সেখানে আজগুবি ভাবে ড্যাপে দেখানো আছে ১৫ ফিট সড়ক। আসলে সেখানে এই ধরনের কোন সড়ক নেই। আর এই আজগুবি সড়কের অযুহাতে রাজউক প্লান দিচ্ছেনা এলাকাবাসীকে। এটা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ভোগান্তির কারন।
তিনি বলেন, ড্যাপ সংশোধন বিষয়ে গৃহায়ন মন্ত্রী তাদের কথা মনযোগ সহকারে শুনেছেন। এবং ড্যাপের বিষয়ে কি ধরনের ক্রটি বিচ্যুতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্টভাবে আবেদন করে তা তুলে ধরতে বলেছেন। সে অনুযায়ী এ বিষয়ে তারা সরকারকে তাদের সুপারিশ তুলে ধরবেন।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, একই সাথে আমরা বলার চেষ্টা করেছি রাষ্ট্রকে আবাসন খাতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। যাতে যত্রতত্র আবাসনের নামে মুল্যবান জমি নষ্ট না হয়। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের উন্নয়ন, দেশের আবাসন সেক্টরের উন্নয়ন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ। ১৮ কোটি মানুষের দেশ। এই দেশে পপুলেশন বাড়বে ল্যান্ড কিন্তু বাড়বে না। আমরা পরিসংখ্যানে দেখেছি ২১শ সালে পপুলেশন প্রায় ৩৫ কোটি হবে। এই ৩৫ কোটি মানুষের আবাসন দিতে হবে একই সাথে কিন্তু রাষ্ট্র খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সেজন্য আমরা বলেছি যে, বাংলাদেশের চাষযোগ্য জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করা যাবে না। তাহলে বিকল্প একটাই যে আমাদেরকে ভার্টিকাল এক্সপেশনে যেতে হবে। হাই রাইজ বিল্ডিং করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে হবে।
গৃহায়ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট বরকতুল্লাহ, ডাইরেক্টর এবং ইটিভির এমডি তাসনোভা মাহবুব সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান এমপিসহ রিহ্যাবের নব নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।
