বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত দ্রুত ও বাধাহীন বাস চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা ও হতাশা। প্রায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ বা বাতিল করার চিন্তাভাবনাও চলছে বলে জানা গেছে।
২০১২ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হলেও মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একাধিকবার সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের খরচ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকার বেশি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিআরটি প্রকল্পের জন্য নির্মিত অবকাঠামো এখন অব্যবহৃত ও আংশিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক স্টেশনের কাউন্টারগুলো পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ ও অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও লোহার সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিআরটি লেন চালু না হওয়ায় সেখানে এখন সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।
উত্তরা–আজমপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের অংশে লোকাল বাসের যাত্রী ওঠানামা করতে দেখা যায়, যেখানে বিআরটির জন্য নির্মিত সিঁড়ি ব্যবহার করছেন যাত্রীরা। গাজীপুরের শিববাড়িতে নির্মিত ডিপো এলাকাও বিভিন্ন বাস কোম্পানির অস্থায়ী টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শুরুতে অনেক ভোগান্তি হলেও এখন এসব অবকাঠামো অব্যবহারে পড়ে আছে।
অন্যদিকে পরিবহন চালকরা বলছেন, বিআরটি লেন চালু না থাকায় পুরো সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। লেন পরিবর্তন, যাত্রী ওঠানামা এবং ভাঙা সড়কের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রকল্প পরিকল্পনায় নকশাগত ত্রুটি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। তারা শুরু থেকেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানা যায়।
সব মিলিয়ে যানজট কমিয়ে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া বিআরটি প্রকল্প এখন ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
