২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া অবসর ভাতা আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার সকালে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া কোনো শিক্ষকই এখন পর্যন্ত তাদের প্রাপ্য ভাতা পাননি। সাধারণত একজন শিক্ষক অবসরের পর ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ বকেয়া রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এই খাতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এই সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ভাতা বিতরণ শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। এতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং বর্তমানে ৬০ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষার বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে শিক্ষাখাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই বাজেট থেকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মিড-ডে মিল চালু এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের জন্য জুতা, মোজা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও স্মার্ট ক্লাসরুম সুবিধা চালু করা হচ্ছে এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তদারকি করা হবে।
সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানসহ চারটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
