আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও জাতীয় অঙ্গীকার।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেন আপিল বিভাগ।
আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। হাইকোর্ট ওই সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এবং বাকি বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখায় এটি এখন চূড়ান্ত।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। এ ব্যবস্থাকে তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল বলেও উল্লেখ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের আলোকে জনমত যাচাই ও প্রয়োজন হলে গণভোটের মাধ্যমে এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখ করা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’কে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ যেসব বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো আদালতের রায় ও জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো সংশোধন জনগণের মতামত ছাড়া করা হবে না।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিভিন্ন অংশীজন, আইনজীবী, বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। এর আগে বিভিন্ন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
