জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। সরকারি অফিস, থানা, রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ডাকাতি, মব জাস্টিসসহ নানাবিধ বিশৃঙ্খলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আশ্রয় চান। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে মানুষকে বাঁচানোই ছিল তাদের অগ্রাধিকার।
এ সময় বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয় ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, পাঁচজন বিচারক, ১৯ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকসহ পরিবার-পরিজন মিলিয়ে মোট ৬২৬ জনকে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কেবল মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে ওইসব মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, যেন আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে তাঁদের রক্ষা করা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী দু-এক দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রাপ্তদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশ করে এবং একই দিনে ১৯৩ জনের একটি তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও একজন এনএসআই সদস্য ব্যতীত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সেনাবাহিনীর দাবি, বিষয়টি ইতোমধ্যে মীমাংসিত হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রচারে লিপ্ত।
এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণকে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আস্থার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
এই সঙ্গে ৬২৬ জন আশ্রয়প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও একজন এনএসআই সদস্য অন্তর্ভুক্ত আছেন।
