ক্ষমতায় এলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণে ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় বিধানের উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, আর বিএনপি এমন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে যেখানে মুসলমানরা কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারবেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও নিরাপদে নিজেদের ধর্ম পালন করতে সক্ষম হবেন।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ইমাম–খতিবদের সামাজিক নিরাপত্তা, সম্মানজনক ভাতা, আধুনিক মসজিদ ব্যবস্থাপনা এবং ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি মনে করে ধর্মীয় বিধান নিয়ে মতবিরোধ যাতে সমাজে অরাজকতা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে ওলামা–মাশায়েখ এবং ইমাম–খতিবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানান, দেশে সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদে প্রায় ১৭ লাখ ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন দায়িত্ব পালন করছেন; তাদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়নব্যবস্থার বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন; ইমান, ইসলাম এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শই বিএনপির মূলনীতি হবে।
ইমাম ও খতিবদের উদ্দেশে তারেক রহমান জানান, তাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন দাবি বিশেষ করে ইমাম–মুয়াজ্জিনদের জন্য সার্ভিস রুল প্রণয়ন যৌক্তিক। অনেক ক্ষেত্রে মসজিদ কমিটির ইচ্ছার ওপর ইমাম–মুয়াজ্জিনদের চাকরি নির্ভর করে, যা তিনি ‘অন্যায্য আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ক্ষমতায় এলে ইমাম–মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান, ইমাম–মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
শেষে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমাদের সৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
