রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন আজ

এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজারের বেশি, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম :

3 Min Read

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশেষ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই ভোটকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এবং অভিযোগকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও চাপা উদ্বেগও রয়েছে।

গত ১৭ বছরের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ এ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ থাকায় তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একইভাবে নারী ভোটারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। তবে আসন বণ্টনে কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়ে নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। শেরপুরের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। যদিও নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে অর্থ বিতরণ ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে জামায়াতও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মোট প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কমিশন।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজারের বেশি, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটারদের দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ফলাফল মেনে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহও এবারের নির্বাচনে বেশি। ভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়া দেশে-বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফল প্রকাশে বিলম্ব হবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে এবং অধিকাংশ আসনের ফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *