ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। তাদের মধ্যে ২২ জন পলাতক, বাকিরা জামিনে বা কারাগারে রয়েছেন।
ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালত মঙ্গলবার এই অভিযোগপত্র গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটিকে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে অতিথি কক্ষে তোফাজ্জলকে আটক করে ছাত্ররা প্রথমে ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ায়। পরে দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকি স্টিক ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। রাত ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশে পিবিআই ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আসামিরা হলেন— জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
তাদের মধ্যে জামিনে আছেন, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল, শেখ ওয়াজিবুল আলম। কারাগারে রয়েছে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া ।
মামলার তদন্ত চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের অভিযোগপত্রে নারাজি জানানো হলেও আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে।
তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনা জেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়ন, তিনি বরিশালের বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করলেও মানসিক সমস্যার কারণে কোনো কাজকর্ম করছিলেন না।
এ ঘটনায় ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা হয়েছে, যা একইসঙ্গে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
