পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলো। এ বছর দেশজুড়ে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে রাজধানীতে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭টি হাট।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট বসবে। গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটও এর মধ্যে রয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বেশির ভাগ হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এ বছর কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশীয় খামারিরাই এবার পুরো চাহিদা পূরণে সক্ষম। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অনলাইন ও খামারভিত্তিক পশু বিক্রির প্রবণতাও বাড়ছে। অনেক খামারি ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রি করছেন। ক্রেতারা ঘরে বসেই পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সময় বাঁচছে এবং হাটের ভিড়ও কমছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খামারে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। খিলগাঁও, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও উত্তরার বিভিন্ন খামারে আগেভাগেই গরু দেখতে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। খামার থেকে পশু কেনার ক্ষেত্রে ভিড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। বড় হাটগুলোতে থাকবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া কোনো পশুকে হাটে তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু কেনাবেচা চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
