তুলা চাষে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read

দেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানো এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ২০ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ করেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো এই অর্থ কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করবে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) বিশেষজ্ঞ ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা জানিয়েছেন, ২৬ জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে সাথি ফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।

সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন জানিয়েছেন, প্রতি বিঘা তুলা চাষে আনুমানিক খরচ ১৫ হাজার টাকা হলেও একজন কৃষক প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এছাড়া দেশের তুলা আমদানির ওপরও নির্ভরতাও কমানো সম্ভব হবে।

তুলা চাষের সুবিধা হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং ভুট্টার মতো এক ফসলের কারণে মাটির ক্ষয় রোধ করে। প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের ৮ হাজার টাকার কৃষি উপকরণ প্রদান করা হবে, যার মধ্যে থাকবে হাইব্রিড বীজ, সার, ছত্রাকনাশক ও উদ্ভিদের বৃদ্ধিকারক।

জোনভিত্তিকভাবে প্রণোদনা পাওয়া কৃষকের সংখ্যা: যশোরে ৩ হাজার, চুয়াডাঙ্গায় সাড়ে ৫ হাজার, ঝিনাইদহে ৩ হাজার ২০০, কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ২০০, রাজশাহীতে ২ হাজার, বগুড়ায় ১ হাজার ২০০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০০, রংপুরে ৬৮০, ময়মনসিংহে ১ হাজার ২০০ এবং ঢাকা, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে প্রতিটিতে ৩৮০ জন।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নতুন জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) তুলার জাত প্রবর্তন এবং দেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত সুবিধার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়, যা জাতীয় চাহিদার মাত্র ৩-৪ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।

তবে, দেশে বস্ত্র শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বছরে প্রায় ৭৫-৮০ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ৭৩ লাখ বেল কাঁচা তুলা আমদানির জন্য সরকারকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল।

ড. মর্তুজা বলেন, “প্রণোদনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলার উৎপাদন বাড়ালে কৃষক লাভবান হবেন এবং দেশের বস্ত্র খাতও সাশ্রয় করবে।”

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *