প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ ঘিরে নাটকীয়তার মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হচ্ছে, এমনকি তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে বলেও জল্পনা ছড়ায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এখনই এ নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়।
মন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য ফোন পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টায় মন্ত্রীদের শপথের সময় এ বিষয়ে কথা বলা সমীচীন হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর, সাবেক কূটনীতিক খলিলুর রহমানকে উপদেষ্টার মর্যাদায় রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে নিয়োগ দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পরে গত বছরের ১০ এপ্রিল তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৭৯ সালে প্রথম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেওয়া খলিলুর রহমান দীর্ঘ সময় জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড)-এ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরবর্তী ২৫ বছর জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। এছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাক্কালে খলিলুর রহমানের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
