বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেন। পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন।
নতুন সরকারে মোট ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। শপথ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটি বিএনপির পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পায় দলটি।
শপথ অনুষ্ঠানটি প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, বিচার বিভাগের সদস্য, কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ৬৮টি আসন পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
