দল থেকে বহিষ্কারের পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের সদস্য নন। ফলে তিনি দলটির প্রতিনিধিত্ব করে সংসদ সদস্য থাকার সুযোগও হারিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনি যেসব পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলো গ্রহণ করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুলকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে বুধবার আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বৈঠকে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
দলটির নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে পদত্যাগের বিষয়ে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দলকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করবেন না—এমন অবস্থানও প্রকাশ করেননি।
জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংসদীয় দলে গাজী নজরুলের পক্ষে কেউ নেই। তাঁকে বহিষ্কারের পক্ষেই অধিকাংশ সদস্য মত দিয়েছেন। তিনি পদত্যাগ না করে আইনি প্রক্রিয়ায় এমপি পদ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও সংসদে জামায়াতের সদস্যদের সঙ্গে বসার সুযোগ পাবেন না বলেও দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। ওই তরুণীও জানান, গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়েছে। একই দাবি করেছেন তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী।
তবে সংশ্লিষ্ট কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও প্রচলিত আইনে বিয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে, তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী।
