সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অনেক প্রার্থীর ভাগ্যে জুটেছে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার গ্লানি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে প্রতিটি প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হয়, যা নির্বাচনি জামানত নামে পরিচিত। এটি প্রার্থীর গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি আইনি প্রক্রিয়া।
জামানত কেন জরুরি?
নির্বাচনি জামানত মূলত ‘নন-সিরিয়াস’ বা অযোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কমানোর জন্য। প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে গেলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এই অর্থ নির্বাচনী অফিসে জমা দিতে হয়। এটি সরকারি ট্রেজারি বা নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া যায়।
কেন বাজেয়াপ্ত হয়?
নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বাজেয়াপ্ত অর্থ সরাসরি সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এই নিয়ম প্রার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং নির্বাচনে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমায়।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে পরিস্থিতি
২০২৬ সালের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যমতে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ প্রার্থী নির্বাচনে ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত সরকারী কোষাগারে গেছে। বিশেষ করে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
জামানতের পরিমাণ
বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদেরকে ২৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা আগে জমা দিতে হয়।
পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ হতে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নয় হাজার ৫০০ টাকা আর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এক হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয়।
জামানত ফেরত পাওয়ার নিয়ম
যারা প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন, তারা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জেলা নির্বাচন অফিস বা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন করে জামানত ফেরত নিতে পারেন। সাধারণত আবেদন করার সময়সীমা ফলাফল ঘোষণার পর ৯০ দিন।
