রমজানকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর চরাঞ্চলে জমে উঠেছে তরমুজ চাষের মৌসুম। জেলার দক্ষিণের বিস্তীর্ণ চরে এখন লাল-সবুজ তরমুজের সমারোহ, আর কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। উৎপাদনের প্রথম ধাপেই বাজার ধরতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক চাষি।
নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালী জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী নতুন জেগে ওঠা চরগুলো মৌসুমি কৃষির প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব চরে সারি সারি তরমুজের লতা আর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা।
বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ও কালাইয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে এখন তরমুজ ক্ষেতের বিস্তার। চরশৌলা এলাকাতেও একই চিত্র। অনেক কৃষকই আগাম ফল সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে রমজানের বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, এ বছর জেলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। শুধু তরমুজ বিক্রিতেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। বীজ, সার, পরিবহন ও শ্রমঘন কর্মকাণ্ড মিলিয়ে অর্থনৈতিক প্রবাহ আরও বিস্তৃত হবে।
চাষি এম এ হান্নান জানান, তরমুজ এখন পটুয়াখালীতে লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। গত বছরের ভালো দামের অভিজ্ঞতায় তিনি এ বছর আবাদ বাড়িয়েছেন। অপরদিকে কৃষক মো. শাহীন মৃধা ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছেন।
শুধু বাউফল নয়, রাঙ্গাবালী উপজেলা, গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা ও কলাপাড়া উপজেলার চরাঞ্চলেও আবাদ বেড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হলেও এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪৮০ হেক্টরে।
পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে উৎপাদন ও বাণিজ্য। তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
চরের সবুজ ক্ষেত এখন শুধু কৃষির প্রতীক নয়, বরং কয়েকশ কোটি টাকার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবাহেরও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
