দেশছাড়ার প্রসঙ্গে ফেসবুকে যা লিখেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

নিউজনেক্সট অনলাইন :

4 Min Read
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ছবি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, তাকে ফরমালি মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। নিজের দেশছাড়ার বিষয়ে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৯ ও ১০ তারিখে অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি। ফরমালি মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে, ফেইসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়েই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। গত শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে রওন হন তৈয়্যব। এরপর তার দেশছাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসতে থাকে।

এর মধ্যে ফয়েজ আহমদ ফেইসবুকে লেখেন, ‘ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি (পোস্ট ও টেলিকম বিভাগ) ও বিটিআরসি থেকে। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায় সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কী করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।’

আরও পড়ুন : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যবের দেশত্যাগের গুঞ্জন

দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে ফয়েজ আহমদ বলছেন, ‘ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে। অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সাথে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমারসহ লেখকরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।’

কোনো দুর্নীতি করেননি দাবি করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলা পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলা প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারসি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুতসা করেছে।

আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি। দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্চ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।’

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *