সংরক্ষিত নারী আসনের দুই-তৃতীয়াংশই কোটিপতি: টিআইবি

টিআইবি বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও সম্পদের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট পেশার আধিপত্য এখানে স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কোটিপতি এবং অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত, এমন তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক বিশ্লেষণে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৪৯ জন মনোনীত প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কোটিপতি এবং ৬৩ শতাংশের বেশি স্নাতকোত্তর বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী। তুলনায় সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর হার ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, ২৭ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক, ৪ দশমিক ১ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পাস। এছাড়া স্বশিক্ষিত ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস ২ দশমিক ১ শতাংশ।

সম্পদের হিসাব বিশ্লেষণে টিআইবি বলছে, ৪৯ জনের মধ্যে ৩২ জনই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসেবে কোটিপতি। এদের মধ্যে ২৫ জন অস্থাবর সম্পদে এবং ১৪ জন স্থাবর সম্পদে কোটিপতি হিসেবে চিহ্নিত। দলীয় হিসেবে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন কোটিপতি। জাগপার একমাত্র প্রার্থীও কোটিপতি।

গড় বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি এমন প্রার্থীর হার ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে এই হার ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সার্বিকভাবে সংসদের সদস্যদের মধ্যে কোটিপতির হার ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

পেশাগত দিক থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে আইনজীবীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর ব্যবসায়ী ২২ দশমিক ৫ শতাংশ, গৃহিণী ১২ দশমিক ২ শতাংশ, শিক্ষক ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৮ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীর হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ করে।

সম্পদের মোট পরিমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোটিপতি প্রার্থীদের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৬ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭৮ কোটি টাকা, যা মিলিয়ে দাঁড়ায় ১৫২ কোটি টাকা। তিনজন প্রার্থীর কাছে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার মধ্যে একজনের নামে ৫০২ ভরি স্বর্ণের তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্ততার হার সমান ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় এই হার কম।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থীদের গড় বয়স ৫২ দশমিক ১৭ বছর। এর মধ্যে ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সার্বিকভাবে সংসদের সদস্যদের গড় বয়স ৫৮ দশমিক ৫ বছর।

- Advertisement -

সংরক্ষিত নারী আসনের দলভিত্তিক বণ্টনে বিএনপি ৩৬টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী ৯টি আসনে। এছাড়া জাগপা, এনসিপি, খেলাফত মজলিশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন একটি করে আসনে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *