৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি নতুন আইপিপি প্রকল্পে চুক্তি

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ভিয়েতনাম ৮,৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন ২,৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা ১,০০০ মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

সরকার ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি)-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই বিদ্যুতের প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টার গড় উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট (প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা), যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে চাই। ফলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমেছে।’

বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম খরচে ৯১৮ মেগাওয়াট উৎপাদনের জন্য আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সবগুলো কেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপিত হবে ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র। কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও হবে।

অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজার, নীলফামারী, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত থাকবে।

কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম জানিয়েছেন, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়েছে, বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য প্রক্রিয়া চলমান। সবগুলো কেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প দেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১,৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।

বিপিডিবি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছিল ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, যার মধ্যে ২৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল। বাতিল প্রকল্প থেকে মোট ২,৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আমরা সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।’

- Advertisement -

বর্তমানে দেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিডে রয়েছে। এছাড়া জলবিদ্যুৎ ২৩0 মেগাওয়াট, বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস ০.৬৯ মেগাওয়াট ও বায়োমাস ০.৪ মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে জনগণকে উৎসাহিত করে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন কমবে। এছাড়া আগে অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি নতুনভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩–২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, চীন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষে ১২ লাখ ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র (২ লাখ ১১ হাজার মেগাওয়াট) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত (১ লাখ ৩৫ হাজার মেগাওয়াট) রয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *