ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক সময়ে শ্লথ হলেও প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানি ২.১০ শতাংশ বেড়ে ৮৮.১৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ৫.৯৭ শতাংশ, যা ১৮.৩২ বিলিয়ন ইউরো থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। তুলনায় চীন থেকে আমদানি মাত্র ১.১৭ শতাংশ বেড়ে ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক থেকে আমদানি কমেছে ১০.৭৩ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ইইউর মোট পোশাক আমদানি ২৪.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭২.২৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরো। এ সময়ে বাংলাদেশ ৩৫.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে (১৪.৩০ বিলিয়ন থেকে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো), যা চীনের ২১.৪৮ শতাংশ ও ভারতের ৩৩.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। তবে তুরস্কের রপ্তানি ৯.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ -এর সাবেক পরিচালক ওডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, বাজারের প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও বাংলাদেশ প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, যা ইতিবাচক সংকেত। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা ও ক্রেতাদের আস্থা এই তিনটি উপাদান বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল চ্যালেঞ্জিং এবং শেষভাগে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় চলে যায়। ইউরোপ ও চীন উভয়ই বছরটি নেতিবাচক প্রবণতায় শেষ করলেও বাংলাদেশের পতন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে মূল্যচাপের কারণে পোশাকের দাম কমে গেলেও বাংলাদেশ পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ক্রেতারা কম দামে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব রপ্তানিকারক দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এ অবস্থায় চীন তুলনামূলক বেশি দামে ছাড় দিতে সক্ষম হয়েছে।
তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এবং নতুন সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির বড় অবনতি না হলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
