বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে কোনো ধরনের বহিঃচাপ কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ ঢাকা ও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, উভয় দেশ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বেইজিং উচ্চ মূল্যায়ন করে এবং দুই দেশের সর্বাত্মক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের আলোচনার পর প্রকল্পটির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিস্তা নদী-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটিকে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক উল্লেখ করে ইয়াও বলেন, আলোচনা ছিল আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাস্তবভিত্তিক মতবিনিময় হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -এর নেতৃত্বে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রদূত আরও স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান- এর সময় থেকে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গেও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চায় বেইজিং।
বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন পাশে থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
