ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বর্তমানে সংসদে সবচেয়ে বেশিবার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে শীর্ষে চলে এসেছেন।
একাধারে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তুখোড় ফুটবলার এবং রাজনীতির অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য স্থান অধিকার করেছেন।
মেজর হাফিজ ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় জাতীয় সংসদে প্রথমবার সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়েছেন। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট সরকার গঠন করলে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির সংস্কারবাদী অংশের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে মূল দলেও ফিরে এসে আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাতিলের সময়ও মেজর হাফিজ সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন।
২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট তিনি পুনরায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
মেজর হাফিজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার সাহসিকতার জন্য দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বপূর্ণ খেতাব বীর বিক্রম দ্বারা ভূষিত হয়েছেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ফুটবলারও ছিলেন, যিনি পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজনের মধ্যে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলাধুলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাকে ফিফা অর্ডার অফ মেরিট প্রদান করা হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বাবা ডা. আজহার উদ্দিন, ভোলা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।
