ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ শনিবার জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান।
এ তথ্য প্রকাশের আগেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পরে সামাজিক মাধ্যমে, যদিও সেসব ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধফরা বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্রটি বলেছেন, কিছু দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একের অধিক ঘাঁটি রয়েছে। ফলে সেসব দেশের আলাদা আলাদা স্থানে হামলা হয়েছে। একটি দেশের শুধুমাত্র একটি ঘাঁটিতেই হামলা সীমাবদ্ধ ছিল না।
এদিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তাদের সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের এমএসটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ তথ্য অস্বীকার করেছে।
বিপ্লবী গার্ড বলেছে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮৫ শিক্ষার্থী নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানে হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
