যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নতুন বাধা: ভিসা বন্ডের আওতায় বাংলাদেশ

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দেওয়ার শর্ত আরোপের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতটি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। সর্বশেষ ঘোষণায় বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম সংযোজন করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড সংক্রান্ত এই নতুন বিধান আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩১ টাকা হিসাবে) প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার সমান।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে, যা ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ভিসাধারী যেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালীন সব শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান না করেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মজীবী মানুষ অস্থায়ী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় প্রবেশ করেন। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। অনুমোদিত সময় অতিক্রম করলে সেটিকে ভিসা ‘ওভারস্টে’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ভিসা আবেদনের সময় আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চায়। তবে ফেরতযোগ্য জামানতের বিনিময়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা খুব কম দেশেই চালু রয়েছে। অতীতে নিউজিল্যান্ড ওভারস্টে রোধে ভিসা বন্ড চালু করলেও পরে তা বাতিল করে। একইভাবে যুক্তরাজ্য ২০১৩ সালে কিছু উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি।

নতুন এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *