দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্যের মানদণ্ড হালনাগাদ, গবেষণা ও নজরদারি জোরদারসহ একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শাকসবজি, চাল, ডিম, দুধ, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যে দূষণ, রোগজীবাণু, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ভারী ধাতু, অ্যান্টিবায়োটিক, প্রিজারভেটিভসহ ক্ষতিকর উপাদানের সহনীয় মাত্রা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্ধারণ ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব খাদ্যের ক্ষেত্রে এখনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই, সেগুলোর জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
বিএফএসএর কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হচ্ছে। দেশের খাদ্য পরীক্ষাগারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৪৭টি পরীক্ষাগারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যের মান পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিএফএসএর সচিব শ্রাবস্তী রায় বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনের জন্য জরুরি। তিনি বলেন, সরকার আইন, নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে উৎপাদক, ব্যবসায়ী, প্রক্রিয়াজাতকারী ও ভোক্তা—সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খাদ্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বিএফএসএর সদস্য (আইন ও নীতি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি গবেষণা, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে কর্মশালা, সেমিনার ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত খাদ্যের মান যাচাইয়ের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে মিনি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ক্ষতিকর উপাদানের উৎস শনাক্ত ও প্রতিকারের উপায় নির্ধারণে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নরসিংদী ও গাজীপুরে কিছু শিশুর শরীরে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর এর কারণ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।
এ ছাড়া আমদানি করা খাদ্যের মান যাচাই, মোড়কজাত খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি প্রকাশের নীতিমালা প্রণয়ন, খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশে খাদ্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
