হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে কর্মরত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৩৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা ওই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠানো ওই অভিযোগে কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মইনউদ্দীন লোটাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটানো, রোস্টার নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, কার্গো সেক্টরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিক ও হেলপাররা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে ডিউটি ও রোস্টার বণ্টনে বৈষম্য করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, রোস্টার বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই এবং অনুগতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে যারা আপত্তি জানান, তাদের কাজের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয় বা চাপের মধ্যে রাখা হয়।
একাধিক হেলপার অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তুষ্ট ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক কর্মী একত্র হয়ে লিখিত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অতীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় থাকার পরও বিশেষ সুপারিশে ওই কর্মকর্তা পুনরায় কার্গো শাখায় যোগ দেন। এছাড়া কার্গো কার্যক্রমে অনিয়ম, চোরাচালান এবং রাজস্ব ফাঁকির ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মইনউদ্দীন লোটাস গণমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে কার্গো সেক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে কর্মপরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
