সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে দেশে জাল নোট প্রবেশ সম্পর্কিত সংশয়জনক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতা জারি করেছে। ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে। সন্দেহজনক নোট শনাক্ত হলে বা এ ধরনের কোনো তথ্য পেলেই তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ লেনদেনে ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদপত্রে কিছু জায়গায় ব্যাপক পরিমাণ জাল নোট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তথ্যচিত্র প্রকাশ হয়েছে যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জাল নোট তৈরি, বহন বা লেনদেন করা গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাল টাকার বিস্তৃতি ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন এবং তা রোধে নিয়মিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে নোট গ্রহণের সময় ব্যাংকগুলোকে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই—জলছাপ, অসমতল ছাপা, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল কালি, ক্ষুদ্র লেখার উপস্থিতি ইত্যাদি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের লেনদেন হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক নোট পাওয়া বা এ ধরনের কোনো খবর জানতে পারলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বা নিকটস্থ পুলিশ ইউনিটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত ব্যানার ও পোস্টার আছে — সেগুলো দেখে যাচাই করে লেনদেন করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে নগদ অর্থ পরিবহনের ঝুঁকি ও খরচ কমাতে এবং জাল নোটের প্রচলন নিয়ন্ত্রণে ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর জোর দিচ্ছে।
ফলে গত কয়েক বছরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল চ্যানেলে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—যা নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়ক।
