মানবতাবিরোধী অপরাধ: ১৫ সেনা কর্মকর্তা সাবজেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গুম, অপহরণ, নির্যাতন, খুন ও জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর পর ঢাকার সেনানিবাসে স্থাপিত সাবজেলে রাখা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সমকালকে জানান, “১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনানিবাসের ভেতরের সাবজেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। সকাল থেকেই কারা কর্মকর্তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।”

এর আগে বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এই কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর সকাল ১০টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের সবুজ রঙের প্রিজন ভ্যানে করে কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে সেনানিবাসে নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ৭টা থেকেই কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে আনা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন বলেন, “আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেনা কর্মকর্তারা নিজেরাই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসনিকভাবে তাদের একসঙ্গে আনা হয়েছে।”

তিনি জানান, “আমরা তিনটি আবেদন করেছি—জামিন, প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন ও সাবজেলে রাখার আবেদন। জামিনের শুনানি হবে ২০ নভেম্বর।”

আদালতের আদেশে উল্লেখিত ১৫ কর্মকর্তা হলেন—

র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা চলছে, যার মধ্যে দুটি গুম ও একটি জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত।

- Advertisement -

ট্রাইব্যুনাল একই সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‍্যাবের তিন সাবেক মহাপরিচালকসহ ৩২ অভিযুক্তের মধ্যে পলাতকদের সাত দিনের মধ্যে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

৮ অক্টোবর অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শককে। বুধবার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে হাজিরার সময় কাকরাইল, পল্টন, মৎস্য ভবন ও হাইকোর্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল পুরো এলাকা জুড়ে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *