ইসলামাবাদে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের অন্তর্নিহিত বার্তা

বর্তমান বাস্তবতায় ইরান আর তাড়াহুড়ো করে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রই এখন সময়ের চাপে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ আলোচনা অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাবের একচ্ছত্র ধারণার ভাঙনের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মনিরুল ইসলাম :

11 Min Read

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী এই সংলাপ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি, এমনকি আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তির দিকে অগ্রগতির কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব ছিল নজিরবিহীন। বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উচ্চ প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতাও এই সংলাপকে গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। তবে এত আয়োজনের পরও মূল বিরোধের জায়গাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবিশ্বাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রভাবও আলোচনার ওপর গভীরভাবে পড়েছে। ‘সামরিক স্মৃতি’ বা সংঘাতের অভিজ্ঞতা দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে দিয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত। বরং ভিন্ন কোনো ফলাফল এলে সেটিই বিস্ময়কর হতো।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

পাকিস্তান সরকার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাজধানীকে কার্যত অবরুদ্ধ করে এই বৈঠকের আয়োজন করে।

অতীতের বিরোধে আটকে রইল আলোচনা : 

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বাহ্যিকভাবে ঐতিহাসিক মনে হলেও বাস্তবে তা ফলশূন্য হয়ে শেষ হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ। তবে আলোচনার ধরন ও অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই পক্ষ ভবিষ্যৎ সমাধানের বদলে অতীতের বিরোধ ও বর্তমান প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয় এবং সারিনা হোটেলকে কার্যত একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হয়। তবে এত আয়োজন সত্ত্বেও আলোচনার ফলাফল ছিল হতাশাজনক।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার দাবি তোলে। বিপরীতে ইরান দাবি করে তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আঞ্চলিক স্বার্থের স্বীকৃতি এবং লেবাননসহ বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর নিশ্চয়তা।

- Advertisement -

এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়েছে, কোনো পক্ষই আপসের লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নেয়নি; বরং নিজেদের অবস্থান ও সীমারেখা স্পষ্ট করতেই তারা এই বৈঠকে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ভাঙনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আস্থার ঘাটতি। ইরান সরাসরি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা নেই। অন্যদিকে আলোচনার পর জে. ডি. ভ্যান্স ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে তাদের ‘সর্বোত্তম ও চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়েছে; যা ইরানের কাছে কূটনৈতিক আহ্বানের চেয়ে চাপ প্রয়োগের ভাষা হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।

তেহরানের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক চাপ প্রয়োগ করেছে এবং বিরতির সময়কে পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে এই আলোচনাতেও তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়।

চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংককে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে আরও নৈরাশ্যজনক পূর্বাভাস প্রস্তুত করতে হচ্ছে।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে দেশীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মঞ্চ দুই ক্ষেত্রেই। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই আলোচনা দেখিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আস্থার ঘাটতি ও পারস্পরিক সন্দেহ কাটিয়ে ওঠা না গেলে কূটনৈতিক সমাধান পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

অভ্যান্তরীণ সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ঘাটতির চাপে যুক্তরাষ্ট্র : 

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই একটি জটিল রাজনৈতিক ও আইনি চাপে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশেষ করে মার্কিন যুদ্ধক্ষমতা আইন (War Powers) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয় এবং অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াতে গেলে কংগ্রেসের সমর্থন অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

এই আইনি কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি রাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি করছে। কারণ, দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য নেই। বরং এটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের কাছেও স্পষ্ট, ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছে। ন্যাটো জোটের ভেতরেও ইরান ইস্যুতে ঐক্য দেখা যায়নি। সংস্থাটির মহাসচিব মার্ক রুতে স্বীকার করেছেন, কিছু ইউরোপীয় মিত্র এই ইস্যুতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। ব্রিটেনও সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ না নিয়ে কেবল পরোক্ষ সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিনিধিত্ব করার বদলে একক উদ্যোগ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের শক্তি তখনই কার্যকর হয় যখন তা বৃহত্তর জোটের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু ইরান ইস্যুতে সেই কাঠামো তৈরি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, আলোচনার ভেঙে পড়া পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি মূল্য বাড়িয়ে সেই অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ও পুনরায় হামলার হুমকি অনেকটাই কৌশলগত দৃঢ়তা দেখানোর প্রচেষ্টা। তবে এর বাস্তব প্রভাব দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আলোচনায় শক্ত অবস্থানে ইরান :

যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সহজেই প্রাধান্য পাবে। তবে বাস্তবতায় সংঘাতের গতিপথ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরান নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল সীমিত ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনে তেহরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে দরকষাকষির টেবিলে ইরান আর শুধু চাপের মুখে থাকা পক্ষ নয়, বরং প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অবাধ নৌচলাচলের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেছে, সেখানে ইরান নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত চলাচল এবং প্রয়োজন হলে চার্জ আরোপের অধিকার দাবি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত এই প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে, সংঘাতের পরবর্তী ধাপে উত্তেজনা কমানোর শর্ত নির্ধারণ করবে কে? এই প্রেক্ষাপটে ইরান দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেই মূল্য অনেক বেশি। ফলে আলোচনায় আপসের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার ব্যর্থতায় তেহরানে একদিকে হতাশা তৈরি হলেও, অন্যদিকে শক্ত অবস্থান ধরে রাখার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। জনমতের একটি অংশ মনে করছে, যুদ্ধে অর্জিত কৌশলগত সুবিধা আলোচনার টেবিলে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

ইরানের জনগণের এই মানসিক পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সংঘাতের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার পরিকল্পনা ছিল, তা উল্টো দেশটির অভ্যন্তরে ঐক্য ও প্রতিরোধের মনোভাবকে জোরদার করেছে। ফলে তেহরানের জন্য কঠোর অবস্থান বজায় রাখা এখন আরও সহজ হয়েছে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সংঘাতের এই ধাপ থেকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানেই বেরিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে এটিকে অনেকেই আংশিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন।

কৌশলগত দ্বন্দ্বে অচলাবস্থার ভবিষ্যৎ কী ?

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সংলাপ শেষ পর্যন্ত শান্তির কোনো পথ তৈরি করতে পারেনি; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা ও নৌ অবরোধের হুমকি দিচ্ছে এবং ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ সামনে আনছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো; এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সুস্পষ্ট কোনো প্রস্থান কৌশলও নেই।

আলোচনার ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর ভাষা একদিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও অন্যদিকে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তার মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ তেহরানের অবস্থান দুর্বল করা, নিজের শর্তে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ চালু করা কিংবা একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট গঠন, কোনোটিই নিশ্চিত করতে পারেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের হুমকি কার্যকর কৌশলের বদলে বরং সীমিত বিকল্পের প্রতিফলন হয়ে উঠছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যেমন আইনি, অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি গ্রহণযোগ্য শর্তে যুদ্ধের সমাপ্তিও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ইরান নিজেকে পরাজিত পক্ষ হিসেবে দেখছে না; বরং তারা এখন সমঝোতার বিনিময়ে নির্দিষ্ট মূল্য দাবি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দরকষাকষির কাঠামোকেও বদলে দিয়েছে। অতীতের মতো চাপ প্রয়োগ করে পরে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার কৌশল আর কার্যকর থাকছে না। তেহরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তির প্রস্তাব অনিশ্চিত, ঘরোয়া রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রভাবাধীন। ফলে তারা এখন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং সহজে ছাড় দিতে রাজি নয়।

তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। পাকিস্তান এখনো আলোচনার ন্যূনতম কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দ্রুত কোনো সমাধানের বাস্তব ভিত্তি এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং শর্তহীনভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো দাবি অব্যাহত রাখে, তাহলে তা সমঝোতার পথ নয় বরং আগের মতোই অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান এসব শর্ত মেনে নেবে না, যার ফলে সংঘাত আবারও তীব্র রূপ নিতে পারে। ইসলামাবাদ সংলাপের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ব্যর্থতা কোনো একক ইস্যুর কারণে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠার ফল।

– আরটিতে প্রকাশিত মুরাদ সাদিগজাদের লেখা যিনি মস্কোর মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কেন্দ্রের সভাপতি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *