বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, যারা নিজেদের ‘গুপ্ত’ পরিচয়ে পরিচিত করছে, তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ভুয়া সিল ও ব্যালট ছাপানোর কাজে জড়িত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সূত্র ও সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সামনে আসছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ছাপাখানায় অবৈধভাবে ব্যালট পেপার ও সিল প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের দিন গোপনে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আরও শুনতে পাচ্ছি, এই গোষ্ঠীর লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংগ্রহ করছে। নির্বাচনের আগেই যদি এভাবে অনৈতিক কাজ শুরু হয়, তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের সৎ ও নৈতিক শাসনের কথা বলছে, তারাই যদি ভোটের আগেই জালিয়াতিতে লিপ্ত হয়, তাহলে জনগণ তাদের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করতে পারে না।নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি মা-বোনদের সম্মান দিতে না জানে, তাহলে তারা কখনোই গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, এসব বক্তব্য সামনে আসার পর সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে আইডি হ্যাকের অজুহাত দিচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এসব দাবি ভিত্তিহীন।
প্রায় দুই দশক পর বরিশালে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সকাল থেকেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। বিপুল জনসমাগমে আশপাশের সড়কগুলোতেও ভিড় ছড়িয়ে পড়ে।
সমাবেশে বরিশাল অঞ্চলের অবকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিএনপির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। নির্বাচিত হলে বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে নির্বাচনের দিন সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনোভাবেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ শরিক দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
