নারী প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার অনেক দল শুরুতেই লঙ্ঘন করেছে: সুজন

কোনো কোনো দল একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি, আবার কেউ পাঁচ শতাংশের কম দিয়েছে। এটি ইশতেহারের প্রাথমিক অঙ্গীকারেরই লঙ্ঘন বলছে সুজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

3 Min Read
সুজন আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন। ছবি-সংগৃহীত

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলোকে ‘প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে, বেশিরভাগ দল তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। বিশেষত, নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দেওয়া অঙ্গীকার অনেক দলই শুরুতেই লঙ্ঘন করেছে, এমনটিও দাবি করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সুজন আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, এবং উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।

এ সময় সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে কিছু বৈচিত্র্য দেখা গেছে। কিছু দল নীতি-নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, আবার কিছু দল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা সামাজিক সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে সকল ইশতেহারে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কেবল ভালো কথা যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগণ এবং প্রবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও বলেন, নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রায় সব ইশতেহারেই ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও, নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সে অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। অনেক দল একটিও নারী প্রার্থী মনোনীত করেনি, আবার কিছু দল পাঁচ শতাংশেরও কম নারী প্রার্থী দিয়েছে। এটি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরই লক্ষণ।

সুজনের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার প্রশ্নে যথেষ্ট পরিস্কারতা নেই।

উদাহরণস্বরূপ, বিএনপির ইশতেহারে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, যার উৎসের ব্যাপারে ইশতেহারে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করানো কর-জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে প্রায় অসম্ভব।

সুজন আরও জানায়, ইশতেহার হলো একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি, যা বাস্তবায়নে তারা কতটুকু সফল তা পর্যালোচনা করতে ৬০ থেকে ১০০ দিন অন্তর অন্তর জনগণকে জানানো হবে। যদি কোনো দল তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে নাগরিকরা প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

সংগঠনটি মনে করে, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো এবং উন্নয়ন মডেল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিজয়ী দল ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়ন করছে, তার ওপরেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *