ভোটকেন্দ্রে মোবাইল: কী করা যাবে, কী যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মুখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) । সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ভোটার, প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষ বা ব্যালটে সিল দেওয়ার কক্ষে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের সময় ভোটার ও সংশ্লিষ্টরা মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা ছবি তুলতে পারবেন। তবে গোপন ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় ব্যালট স্ট্যাম্পিং কক্ষে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন নেওয়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

আখতার আহমেদ জানান, আগের সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিষয়টি পরিপত্র আকারে প্রকাশ করা হবে, যাতে আর কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।

তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না।

ইসি সচিব আরও বলেন, সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পরিপত্রের একটি অংশ নিয়ে ব্যাপক আপত্তি ওঠে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিশন আলোচনার মাধ্যমে সেই অংশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে রবিবার রাতে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল। ওই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দাবিতে ডাকসুর একটি প্রতিনিধি দলও ইসির সঙ্গে আলোচনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মূলত মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, আগের নির্দেশনায় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। এখন নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রেখে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *