অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাশ্রয়ী নীতির মধ্যেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বাজেটের বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধিও ঘটেছে। একই সময়ে শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে স্বায়ত্তশাসন রক্ষার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে বিপুল অঙ্কের সরাসরি ক্রয়, নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ায় এবং উপদেষ্টার পরিবারের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সংক্রান্ত অভিযোগ এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনরা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বৃদ্ধির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব এখনও জনসাধারণের চোখে দৃশ্যমান হয়নি, যা সরকারের সাশ্রয়ী নীতি ও অর্থনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।
আসুন ফিরে দেখা যাক সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে যত বিতর্ক ও অভিযোগ :
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক :
অর্থের সংকটে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করলেও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তা কার্যকর হয়নি। সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে অন্যান্য মন্ত্রণালয় পরিচালন খাতে ব্যয় কমাতে সক্ষম হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বাড়তে থাকে।
পরিসংখ্যান অনুসারে, গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় ছিল ৩৩৭ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ৩৯৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৪১০ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জন্য বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৮২৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিচালন খাতের জন্য বরাদ্দ ৪৮৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ৪৮৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে পরিচালন ব্যয়। বাকি ৩৩৭ কোটি টাকা নির্ধারিত রয়েছে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয় ছিল ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৯০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে।
গত বছরের ১০ নভেম্বর চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় তথ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির অংশগ্রহণে জাতীয় অনুষ্ঠান, নববর্ষ উদযাপন, ঈদ, পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ এবং শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়নসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
যদিও এসব প্রকল্পের কিছুই দৃশ্যমান নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
দরপত্র ছাড়াই নির্মাণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মরণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এটি রূপান্তরে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
গত ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘরের রূপান্তরের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে এই জাদুঘরের ‘সিভিল’ ও ‘ই/এম’ অংশ নির্মাণ বা সংস্কার কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করার অনুমোদন দিয়েছে অর্থনীতি বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
সরকারি ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (DPM) সাধারণত জরুরি প্রয়োজন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়।
তবে প্রতিযোগিতার অভাব থাকায় এই পদ্ধতিতে দুর্নীতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেখা যায়; কৃত্রিম জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উন্মুক্ত দরপত্র এড়ানো, অত্যধিক মূল্য নির্ধারণ, যেখানে ব্যয় বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকশত শতাংশ বেশি হতে পারে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে চুক্তি দেওয়া, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কারসাজি, যাতে শুধু নির্দিষ্ট কোম্পানি যোগ্য হয়, ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেন, কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নগদ অর্থ বা সুবিধা, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং জাল কোটেশন প্রদর্শনেরও সুযোগ থাকে।
গত বছরের ১৫ জুলাই সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিলেন।
জাদুঘরের ই/এম অংশ বলতে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল অংশকে বোঝায়। যার মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল অংশ থাকে। যেমন- ইলেকট্রিক তার, সুইচসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল সামগ্রী। আর সিভিল অংশ বলতে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল অংশ বাদে বাকি অংশকে বোঝায়। অর্থাৎ ই/এম এবং সিভিল এই দুটি অংশের মধ্যে জাদুঘরের সম্পূর্ণ অংশই থাকবে।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল অংশ মেসার্স শুভ্রা ট্রেডার্সকে দেওয়া হয় যার প্রাক্কলন ব্যয় ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে সিভিল অংশের কাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লি’ কে দেওয়া হয় যার প্রাক্কলন ব্যয় ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রকল্পকে ঘিরে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী তিশা ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নামও আলোচনায় আসে।
সৈয়দ জামিল আহমেদ পদত্যাগ, মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ :
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পান নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন, যা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাডেমির সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের হাতে তিনি চিঠি তুলে দেন। মঞ্চে উপস্থিত অনেকেই তার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
পদত্যাগের সময় দেওয়া বক্তব্যে জামিল আহমেদ অভিযোগ করেন, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া প্রকল্পে অর্থ ছাড় দেওয়ার চাপ ছিল। তার ভাষ্য, ‘কোনো চিঠি ছাড়া কোনো টাকা দেওয়া হবে না এই অবস্থানে আমি অনড় ছিলাম।’ তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর একাডেমির স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের মুখে পড়েন। বাজেট কর্তন, ফাইল আটকে রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতার মাধ্যমে একাডেমির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সৈয়দ জামিল আহমেদ গণমাধ্যমে যে লিখিত বক্তব্য দেন, সেখানে তিনি বলেন– ‘উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার জটিলতা, একাডেমির সচিবকে ‘ফোকাল পারসন’ হিসেবে মনোনীত করে মহাপরিচালকের বিধিসম্মত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, বাজেট কর্তন, শিল্পকলার ভেতর থেকে ফাইল গায়েব করে দেওয়া, একাডেমির অভ্যন্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্ররোচিত করে কাজের পরিবেশ ব্যাহত করা এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের নানা অপতৎপরতার কারণে’ তিনি মহাপরিচালক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

তখন অভিযোগ উঠে, উপদেষ্টার অসহযোগিতা ও শিল্পকলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির সিন্ডিকেটের কারণে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না।
অন্যদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জামিল আহমেদের সব অভিযোগ সঠিক নয়। তার মতে, শিল্পীসত্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা দুটি ভিন্ন বিষয়; প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয় প্রয়োজন হয়।
পদত্যাগের এই ঘটনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাংস্কৃতিক মহলে একাডেমির স্বায়ত্তশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আফসানা বেগমের নীতিমালা সংস্কার প্রচেষ্টা ও মন্ত্রণালয়-উপদেষ্টার বিরোধ:
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে বই নির্বাচন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর হঠাৎ অব্যাহতি দেওয়া হয় পরিচালক লেখক আফসানা বেগমকে। দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া চার পর্বের পোস্টে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক বাধার অভিযোগ তুলেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর আফসানা বেগম বই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। তার প্রস্তাব ছিল, সচিব ও মন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত ২০ শতাংশ কোটা বাতিল করে ১০০ শতাংশ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। তার মতে কোটা ব্যবস্থার কারণে মানহীন ও অযোগ্য বই লাইব্রেরিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে।
তবে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ প্রস্তাবে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেছেন আফসানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী উপদেষ্টা কোটা রাখার পক্ষে ছিলেন এবং বলেছেন, ‘কোটা থাকুক, পরবর্তী সরকার ব্যবহার করবে’।
আফসানা বেগম অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেখেছেন একাধিক মানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বই কেনা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এক অতিরিক্ত সচিবের লেখা ‘আমার স্ত্রীর জন্মদিনে লেখা ৫০ কবিতা’ শিরোনামের বইয়ের এক হাজার কপি ক্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়া উচ্চমূল্যের কিছু বইও বিশেষ কোটায় কেনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার আরও অভিযোগ, গ্রন্থকেন্দ্রের বিভিন্ন ফাইল ও প্রস্তাব দীর্ঘদিন মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকত এবং নীতিগত বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হতো না। অব্যাহতির সময় সহকর্মীদের আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়ার কথাও তিনি পোস্টে তুলে ধরেন।
আফসানা বেগম মনে করেন, দেশের ৭০টির বেশি শতবর্ষী ও প্রাচীন পাঠাগার পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক বইমেলা সম্প্রসারণ, প্রকাশনা উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে গ্রন্থকেন্দ্রকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব ছিল। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত উদাসীনতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে তার দাবি।
মানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বই বেশি দামে কেনার পেছনে কারণ সমূহ খুঁজে দেখার দাবি সংশ্লিষ্টদের। ঘটনাটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও গ্রন্থকেন্দ্রের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছিল।
ফারুকীর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ফারুকীর মোট সম্পদ কিছুটা কমলেও তার স্ত্রীর সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৪ সালে তার মোট সম্পদ ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। ফারুকীর সম্পদের মধ্যে আর্থিক খাতের পরিমাণ ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৬ টাকা এবং অ-আর্থিক সম্পদ এক কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৪০ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রীর সম্পদ বিপুল হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদ ছিল এক কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকা, যা এক বছরে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা বৃদ্ধি। তিশার সম্পদের মধ্যে আর্থিক খাতের পরিমাণ দুই কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং অ-আর্থিক সম্পদ ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৮ টাকা। তবে ২০২৫ সালের বিবরণী অনুযায়ী তার এক কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।
সব মিলিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে ঘিরে ব্যয় বৃদ্ধি, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্বায়ত্তশাসন নিয়ে টানাপোড়েন এবং সম্পদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত তথ্য এসব বিষয় নতুন করে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সময়ে।
একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
